””         সুশাসনের অভাব ধর্ষকামীদের প্রশ্রয়ের অন্যতম কারণ – Arambagh Times
Sat. Feb 27th, 2021

Arambagh Times

কাউকে ছাড়ে না

সুশাসনের অভাব ধর্ষকামীদের প্রশ্রয়ের অন্যতম কারণ

1 min read

কাশ্মীর থেকে উত্তর প্রদেশ, ব্যাঙ্গালোর থেকে পশ্চিমবঙ্গ সর্বত্র এক থেকে আশি কোনো মহিলার নিরাপত্তা নেই। ধর্ষকামীদের বাড়বাড়ন্ত এমন পর্যায়ে যে ধর্মস্থানেও মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত নেই। ফুটপাতেই যাদের আশ্রয়, ভিক্ষান্নে দিনাতিপাত করে কোনো ভাবে বেঁচে থাকে রেহাই নেই তাদেরও। রাস্তায় বেরিয়ে আদৌ মেয়ে সুরক্ষিত ফিরবে কিনা কোনো নিশ্চয়তা নেই। অথচ পুলিশ আছে, প্রশাসন আছে, জনপ্রতিনিধি আছে সর্বোপরি আইন আছে।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, এরপরও মেয়েদের ঘরে বাইরে নিরাপত্তা নেই কেন। আসলে এখানে পুলিশ প্রশাসন পরিচালিত হয় শাসকদলের অঙ্গুলিহেলনে। বহু ক্ষেত্রে অপরাধিদের হাত কোনো না কোনো শাসকদলের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধা। ফলে ধর্ষণ করে নৃশংস খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয় বহু দেরিতে, বা আসল অপরাধী প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশের নজরে আসে না। অত্যাচারিত মহিলা সাধারণ বিত্তের হলে তো কোন কথাই নেই। বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কেঁদে বেড়ায়। পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ অধিকাংশ সময় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে যেভাবে তারিয়ে তারিয়ে অত্যাচারিতা মহিলাকেই জেরা করে যে পরোক্ষভাবে মহিলা ন্যায়ের পরিবর্তে আরও একবার কুৎসিত ইঙ্গিত সুচক জেরার জালে ধর্ষিত হয়। মানবাধিকার সংগঠনের ভুমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে বারবার। রাজনৈতিক দলগুলি জল মাপে, ধর্ষিতা কোন জাত, দলিত? সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের? গরীব না ধনী, রাজনৈতিক সুবিধা কিসে হবে, কতটা ফায়দা হবে তার উপর ভিত্তি করে “আন্দোলন” সংগঠিত করা হয়। এই দেশে ষোলো বছরের ছেলে সাবালকের মতো ধর্ষণ করে নৃশংস খুনের ঘটনা ঘটিয়েও বয়সের কারনে নাবালক তাই লঘু দন্ড পেতে পারে, জনপ্রতিনিধি কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি করলেও জেলে ভিআইপি আদরে থাকে, জেলে বসেও নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করে, বুদ্ধিজীবী তাদেরও “আমরা ওরা”, ধর্ষনের প্রতিবাদে দ্বিচারিতা। আইনের অনুশাসনের অভাবে অপরাধ ও অপরাধী তাই শক্তিশালী। যেকোনো অপরাধে দলমত নির্বিশেষে একযোগে প্রতিবাদ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে, রাজনৈতিক মুনাফাকে প্রাধান্য না দিয়ে অন্যায় অধর্মের বিরুদ্ধে গর্জে না উঠলে, জাতপাতকে প্রাধান্য না দিয়ে মানুষ মনে করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে এককাট্টা না হলে, পুলিশকে দলদাসে পরিনত না করে তাদের পদের স্বাধীনতা না দিলে, অপরাধীদের বিচারে দীর্ঘসূত্রতা না করে দৃষ্টান্তমূলক কঠোরতর শাস্তি না দিলে শুধু ধর্ষকরাই নয়, যে কোনো অপরাধীই অপরাধ করে নিশ্চিন্তে কোনো না কোনো শাসকদলের আশ্রয়ে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াবে। চালুনি সূচের বিচার করার মতোই নিজেরর রাজ্যে এক থেকে আশি মহিলাদের নিরাপত্তা নেই আর অন্য রাজ্যে একই অপরাধে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে ঝান্ডা নিয়ে রাস্তা অচল করা যে হাস্যকর সেটা আমজনতা বুঝলেও অসহায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright © All rights reserved. | Powered by KTSL TECHNOLOGY SERVICES PVT LTD(7908881231).