””         দানখয়রাতিতে টাকা জোটে কিন্তু সরকারি কর্মীদের প্রাপ্য ডিএ মাত্র ৩% – Arambagh Times
Tue. Jan 19th, 2021

Arambagh Times

কাউকে ছাড়ে না

দানখয়রাতিতে টাকা জোটে কিন্তু সরকারি কর্মীদের প্রাপ্য ডিএ মাত্র ৩%

1 min read

লক ডাউনে নাকি সরকারের কোষাগারের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। কলকারখানা বন্ধ, উৎপাদন বন্ধ, আমদানি- রপ্তানি বন্ধ, স্বাভাবিক, আয়ের উৎস বন্ধ থাকারই কথা। সরকারি কোষাগারের অবস্থা অত্যন্ত করুন— যুক্তিটা মেনে নেওয়ারই মত। অন্য রাজ্যের ক্ষেত্রে হলে অবশ্যই বিশ্বাসযোগ্য হতো। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে আলাদা। এখানে সরকারি বক্তব্যের সঙ্গে সরাসরি কাজের আকাশ পাতাল পার্থক্য আছে। কোষাগারের অবস্থা যদি অত্যন্ত খারাপ তাহলে লক ডাউনে এই রাজ্যে এত ক্লাবকে পঞ্চাশ হাজার করে টাকা দেওয়া যায় কি করে? সবুজ সাথীর কত সাইকেল আজও বহু স্কুলে ড্যাম হয়ে পড়ে পড়ে জং ধরে নষ্ট হচ্ছে। আর যেসব ছাত্র ছাত্রী সাইকেল পেয়েছে তারাই জানে সেই সব সাইকেল নিয়ে কি যন্ত্রনা, শুরু থেকেই সারাতে হচ্ছে। ভোটের মুখে হঠাৎ করেই ব্রাম্ভনদের এক হাজার করে টাকা অনুদান ( ‌ভিক্ষা !) দেওয়ার কথা মনে পড়লো। যদিও বা সিদ্ধান্ত হলো, তাও মাত্র আট হাজার জনকে। কানাঘুষা চলছে সেই সব ব্রাম্ভনরাই পাবেন যারা ‌তৃনমূল সমর্থক সনাতন ব্রাম্ভন ট্রাস্ট এর সদস্য। ভোটের মুখে নামমাত্র কয়েকজন ব্রাম্ভনকে হাতে গোনা মাত্র এক হাজার করে টাকা অনুদান ‌ভিক্ষা দেওয়া হবে জেনেই সনাতন ব্রাম্ভন ট্রাস্ট এর সদস্যরা রাস্তায় নেমে মিছিল, সভা করে আশির্বাদের বন্যা বইয়ে দিলেন। এবার ঘোষণা হলো দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছাত্রীদের ট্যাব দেওয়া হবে। সরকারি সাইকেলের মতোই সেটিও কতটা ব্যবহারযোগ্য হবে সন্দেহ থাকলেও খাতায় কলমে এতসংখ্যক ট্যাবের তো মোটা অংকের মুল্য ধরা হবে। আসছে কোথা থেকে এত টাকা? অথচ সরকারি কর্মীদের প্রাপ্য ডিএ মাত্র ৩%!! কেন এই বৈষম্য? কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সমহারে ডিএ দেওয়া তো দূরের কথা এখনও পর্যন্ত এই রাজ্যে সরকারি কর্মীদের প্রাপ্য ডিএ দেওয়া হচ্ছে না। ললিপপের মতো দু/তিন শতাংশ ডিএর ঘোষণা হচ্ছে আর তৃনমূল সমর্থিত সরকারি সংগঠনের সে কি উল্লাস, যেনো হাতে চাঁদ পেয়েছেন।
শুধু সরকারি কর্মীরাই প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তাই নয়, জেলায় জেলায় প্রকাশিত আঞ্চলিক সংবাদপত্রের ভূমিকা যেকোনো দৈনিক সংবাদপত্রের থেকে কম নয়। বরং লোকাল রাজনীতির ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ধারণ করে এই আঞ্চলিক সংবাদপত্রগুলো। এলাকার সমস্যা সমাধান করতে এই আঞ্চলিক সংবাদপত্রের ভূমিকা অনস্বীকার্য। অথচ তৃনমূল কংগ্রেস সরকার গঠন করার পর সবার আগে আঞ্চলিক সংবাদপত্রের টূঁটি টিপে দিতে সরকারি বিজ্ঞাপন প্রায় বন্ধই করে দিয়েছে। টুকটাক যদিও বা টেন্ডার এর বিজ্ঞাপন জোটে তারও যা রেট ছাপার খরচও জোটেনা। সরকারি বিজ্ঞাপন এর জন্য সাপ্তাহিক, পাক্ষিক পত্রিকার আলাদা আলাদা রেট, তাও অতি নামমাত্র। সাংবাদিকদের জন্য মাভৈ প্রকল্প এক রকম সরকারি “মজা” করার সামিল, যেমন সাংবাদিকদের জন্য পেনসন। পায়ের জুতো ছিঁড়ে গেলেও মেলার সম্ভাবনা নেই। এক্রিডিটেশন কার্ড প্রদানের ক্ষেত্রেও দৈনিকের সঙ্গে বিস্তর ফারাক। আঞ্চলিক সংবাদপত্রের জন্য মাত্র একটি এক্রিডিটেশন কার্ড কেনো দেওয়া হবে? যারা জীবনের ঝুৃঁকি নিয়ে, পেটে কিল মেরে সাংবাদিকতা করেন, আঞ্চলিক সংবাদপত্রের সেই সব সাংবাদিকদের জন্য এই সরকার আদৌ কি কিছু করেছেন? হ্যাঁ, করেছে, তেল দেওয়া মিথ্যা সংবাদ না করে চোখে আঙুল দিয়ে সরকার এর বিভিন্ন দপ্তরের এবং শাসকদলের দূর্নীতি দেখিয়ে দিলেই মিথ্যা কেসে জড়িয়ে গ্রেফতার, হয়রানি এমন যতকিছু ভাবে কলম ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়া যায় করছে।
ক্লাবগুলোকে টাকা না দিয়ে ক্লাবের বেকার সদস্যদের কর্মের সংস্থান করে দিলে তারা সত্যিকার উপকৃত হতেন, স্কুলে ছাত্র ছাত্রীদের সাইকেল, ট্যাব না দিয়ে পড়াশুনার মানোন্নয়নে কঠোর দৃষ্টি দিলে শিক্ষকদের বাড়তি ইনকামে হয়তো বাধা পড়তো, কিন্তু বহু দুঃস্থ ছাত্র ছাত্রী উপকৃত হতো, বাড়তি টিউশুনির অর্থ জোগাড়ের কষ্ট থেকে রেহাই পেতো। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের চেম্বারে বসা বাধ্যতামূলক বন্ধ করে হাসপাতালে নির্দিষ্ট সময়ে এসে সুচিকিৎসা প্রদানে কঠোর ভুমিকা নিলে বহু নিম্নবিত্ত পরিবারের ঘটিবাটি বেচে চেম্বারে, নার্সিং হোমে একটু চিকিৎসা পেতে ছোটাছুটি করতে হতো না।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন তিনি সব খবর রাখেন, তাহলে এই বিষয়গুলিও নিশ্চয়ই তাঁর নখদর্পণে আছে। তাহলে ভোট আর ক্ষমতার দিকে না তাকিয়ে একবার অন্তত এই টার্মের শেষ বেলায় কেন তিনি ক্ষমতা হারানোর আশংকাকে দুর করে একবারের জন্যও জনকল্যানমুখী সিদ্ধান্ত নেবেন না? এমনও তো হতে পারে, হয়তো সত্যিকার রাজ্যের উন্নয়নের জন্য তাঁর সিদ্ধান্ত তাঁকে দলমত নির্বিশেষে সকলের হৃদয়ে চিরস্থায়ী করে রাখতে পারতো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright © All rights reserved. | Powered by KTSL TECHNOLOGY SERVICES PVT LTD(7908881231).