””         শহীদ ক্ষুদিরাম : মনোরঞ্জন হাজরা – Arambagh Times
Fri. Jan 22nd, 2021

Arambagh Times

কাউকে ছাড়ে না

শহীদ ক্ষুদিরাম : মনোরঞ্জন হাজরা

1 min read

মোজাফফরপুর থেকে ওয়াইলি রেলস্টেশন। এখন যার নাম পুষারের রেলস্টেশন। রাতের অন্ধকারে তরুণ এক বাঙালি কখনো দৌড়ে কখনো দ্রুত হেঁটে পৌঁছালো ওয়াইলি স্টেশনে। দারুন ক্ষুধার্ত, পিপাসার্ত জল খেতে গিয়ে রিভলভার দেখে ফেলেন এক সিপাই।সিপাই তাকে ধরে ফেলে। সে গ্রেফতার হয়েছিল এবং ফাঁসি হয়েছিল। নির্ভীক এই বাঙালির নাম ক্ষুদিরাম বসু। 1889 সালে ৩ রা ডিসেম্বর সন্ধ্যা পাঁচটার সময় মেদিনীপুরের হাবিবপুর গ্রামে ক্ষুদিরামের জন্ম। বাবা ত্রৈলোক্যনাথ বসু, মা লক্ষ্মী প্রিয়া দেবী। কালী মায়ের কাছে প্রার্থনা করে, কালী মায়ের আশীর্বাদে ক্ষুদিরামের জন্ম। কিন্তু স্বপ্ন দেখলেন তাঁর পুত্র সন্তান অমর হবে -তবে বেশিদিন বাঁচবে না। তাই মা তার বড় মেয়ে অপরূপাকে ডেকে বললেন তুই একে কীনে নে। খুদ দিয়ে ভাইকে কিনে নিল বড়দিদি। তার নাম হলো ক্ষুদিরাম। ক্ষুদিরামের মাত্র ছয় বছর বয়সে তার মা মারা যান। ছেলেদের মানুষ করবার জন্য বাবা আবার বিয়ে করলেন কিন্তু বিয়ের ছয় মাসের মধ্যে তিনি মারা গেলেন। ক্ষুদিরামের দায়িত্ব নিলেন বড়দিদি অপরূপা ও জামাইবাবু অমৃত লাল। ভর্তি করলেন তমলুক হ্যামিল্টন স্কুলে। ক্ষুদিরাম পড়াশোনার চেয়ে ডানপিটে করা, খেলাধুলা করা তার প্রিয় ছিল। অন্যায় সহ্য করতে পারত না। তার স্কুলের এক বন্ধুকে কোন ফেরিওয়ালা গালি দিয়েছিল, বন্ধুটি ক্ষুদিরামকে নালিশ করাতে ক্ষুদিরাম বীর হুংকারে সেই ফেরিওয়ালাকে বেদম মারে। তারপর থেকে তাদের তমলুকের বাস উঠে গেল। জামাইবাবু চলে এলেন মেদিনীপুর শহরে। ক্ষুদিরাম ভর্তি হল কলিজিয়েট স্কুলে। সেখানে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে। তখন ছিল 1905 সাল। 1905 সালে বাংলাতে অগ্নিগর্ভ অবস্থা। অরবিন্দ ঘোষ কে কেন্দ্র করে সারাবাংলা তে বিপ্লবের আগুন। সেই আগুনে ঝাঁপ দিলেন ক্ষুদিরাম। 1902সালে সতীশ চন্দ্র বসু কলকাতায় এসে প্রতিষ্ঠা করেছেন অনুশীলন সমিতি, যোগ দিয়েছেন বারীন ঘোষ, যতীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।লর্ড কার্জনের আমল। ৭ইই জুলাই খবর এলো -ঢাকা, চট্টগ্রাম, পার্বত্য ত্রিপুরা, দার্জিলিং ও রাজশাহী বিভাগ কে একত্রে করে নাম দেয়া হবে পূর্ববঙ্গ ও আসাম’ প্রদেশ। বাঙালি প্রতিবাদে মুখর হয়ে উঠলো। শুরু হল বয়কট আন্দোলন। সেই সময়ে ক্ষুদিরাম আশ্রয় নিল তার বিপ্লবী গুরু সত্যেন্দ্রনাথ বসুর তাঁতশালে। ইংরেজ সরকারের কুখ্যাত বিচারক কিংসফোর্ড। এই কিংসফোর্ডকে মারার জন্য একবার বই বোমা পাঠানো হয়েছিল কিন্তু ধূর্ত কিংসফোর্ড বইটি খুললেন না বইটি খুললি তিনি মারা যেতেন। বিপদ বুঝে তাকে কলকাতা থেকে মোজাফফরপুর এ পাঠানো হয়। কিংসফোর্ডকে খতম করার দায়িত্ব পড়ল ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকীর ওপর। তাদের ছদ্মনাম দীনেশ রায় ও দুর্গাদাস সেন। 30 এপ্রিল সন্ধ্যা ছয়টা 1 908 সাল।ক্ষুদিরাম বোমা ছুঁড়লেন- নির্ভুল লক্ষ্য কিন্তু কিংসফোর্ড নেই গাড়িতে। মারা গেলেন মিসেস কেনেডি ও তার মেয়ে। ক্ষুদিরাম ধরা পড়ে গেলেন -অপরাধ স্বীকার করলেন। ফাঁসি হলো 11 ই আগস্ট 1908 সালে ভোর চারটে। গীতা পাঠ করে, বীরদর্পে ফাঁসির দড়ি গলায় পড়েছিলেন। দিদি অপরূপার চোখের জলে স্বীকারোক্তি *মায়ের স্বপ্ন সত্যি হলো*

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright © All rights reserved. | Powered by KTSL TECHNOLOGY SERVICES PVT LTD(7908881231).