””         জাতপাতের রাজনীতি খোদ সরকার কিভাবে করে? – Arambagh Times
Fri. Jan 22nd, 2021

Arambagh Times

কাউকে ছাড়ে না

জাতপাতের রাজনীতি খোদ সরকার কিভাবে করে?

1 min read

ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় বৈশ্য শূদ্র, আবার শূদ্রের মধ্যে এবং জেনারেল কাস্ট এর মধ্যেও অসংখ্য ভাগ। জেনারেল কাস্ট এর মধ্যে যেমন ব্রাম্ভন,ক্ষত্রিয় আছে, তেমনই কায়স্থ , একাদশ তেলি ইত্যাদি আছে। আবার শুদ্রদের মধ্যেও ওবিসি এসসি এসটি এমন ভাগ আছে। কারা করেছেন? সরকার। অথচ জাতপাত এর বিষয়ে শুধুমাত্র কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয় ব্রাহ্মণদের। যদিও কর্মের ভিত্তিতে সদগোপ, গয়লা, মাহিষ্য, কৈবর্ত, কামার কুমোর, হাঁড়ি, মুচি এমন বহু শ্রেনীবিভাগ কোন ব্রাম্ভন করেন নি। বল্লাল সেনের আমলে তিনি নাকি এসব করেছেন। তিনি নিজে ব্রাম্ভন ছিলেন না। স্বাধিনতা লাভের পর সরকার এসব প্রথা তুলে দিতে পারতো। কিন্তু না, রাজনীতির স্বার্থে তা ভেঙেচুরে আরও দুটি শ্রেনী তৈরি করা হয়। এসসি এসটি তো ছিলই, পরে ওবিসি ক,খ হয়। স্কুল কলেজে ভর্তি হওয়া থেকে শুরু করে চাকরি সমস্ত ক্ষেত্রেই ফরম ফিলাপের ক্ষেত্রে প্রথমেই উল্লেখ করতে হয় সেই ব্যক্তি ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় বৈশ্য না শূদ্র। এসসি এসটি ওবিসি কেন এমন উল্লেখ করতে হবে? যারা কথায় কথায় ব্রাহ্মণদের টিকি ধরে টানতে ভালোবাসেন , তারা সরকারের এই ঘৃন্য নীতি কেন সমর্থন করেন? সরকার কিভাবে জাতপাতকে সরকারি ভাবে প্রতিনিয়ত প্রশ্রয় দিয়ে চলেছে? যদি বুদ্ধি সকলের সমান হয় তাহলে চাকরির পরীক্ষার ক্ষেত্রে কেন এসসি এসটি ওবিসি রাত বাড়তি সুবিধা পাবেন? স্বাধীনতার সত্তর বছর পরেও কেন অযোগ্য হলেও শুধুমাত্র জেনারেল কাস্ট না হওয়ার সুবাদে বাড়তি সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে তারা চাকরি পাবেন। এমনকি জেনারেল কাস্ট দের আসন সংখ্যাও সীমিতসংখ্যক। ভয়ঙ্কর প্রতিযোগিতা। শিক্ষিত বেকার জেনারেল কাস্ট এর সংখ্যা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। কারন, যে হারে শিক্ষিত জেনারেল কাস্ট এর সংখ্যা বাড়ছে সে তুলনায় চাকরির আসন সংখ্যা অতি সীমিত, এখন আবার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আসন সংরক্ষণের ফলে যোগ্য এসসি এসটি ওবিসি না পাওয়া গেলেও জেনারেল কাস্ট এর সুযোগ নেই।
সরকারি বৈষম্যের আর এক নমুনা, একই পদে চাকরির পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য জেনারেল কাস্ট এর ক্ষেত্রে যে হাজার টাকা দিতে হলে এসসি এসটি ওবিসি এদের নামমাত্র মূল্য দিলেই চলবে। এক তো জেনারেল কাস্ট এর ছেলে মেয়েরা নম্বর সব থেকে বেশি পেলেও অনেক নামিদামি স্কুল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ নেই, কিন্তু অতি সাধারণ নম্বর পেয়েও একজন এসসি, এসটি বা ওবিসি অবলীলায় বিনা পরীক্ষায় ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়ে যায়। কেন এই বৈষম্য হবে? জেনারেল কাস্ট হলে শুধু চাকরির ক্ষেত্রেই নয়, অন্যান্য বহু সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হতে হয়। অথচ জেনারেল কাস্ট এর সবাই সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মায় নি। মেধা থাকা সত্ত্বেও তারা সর্বক্ষেত্রে বঞ্চিত। আর ব্রাম্ভন ক্ষত্রিয় বৈশ্য হলে তো কথাই নেই। যেন এইসব শ্রেনী তে জন্মানো টাই সব থেকে বড় অপরাধ। অর্থের ভিত্তিতে সংরক্ষণ এর প্রতিশ্রুতি দিয়েও কেন্দ্রীয় সরকার রাজনীতির স্বার্থে আজও তা ফলপ্রসূ করেনি। এতে যেমন দরীদ্র মেধাবী এসসি এসটি ওবিসি এরাও বাঁচতো, একই ভাবে দরীদ্র মেধাবী জেনারেল কাস্ট এর নিরপরাধ ছেলেমেয়েদের সামনেও দিশা জাগতো। এই রাজ্যে সরকারে পরিবর্তন আসার পর ধারণা হয়ে ছিল হয়ত এবার ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হবে। না, শুধু রাজনৈতিক রং এর পরিবর্তন টুকু ছাড়া বাকি সবই যেমন ছিল তেমনি আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright © All rights reserved. | Powered by KTSL TECHNOLOGY SERVICES PVT LTD(7908881231).