””         নির্বাচন প্রাক্কালে পুজোর অছিলায় ক্লাবগুলোকে 50 হাজার করে টাকা – Arambagh Times
Fri. Jan 22nd, 2021

Arambagh Times

কাউকে ছাড়ে না

নির্বাচন প্রাক্কালে পুজোর অছিলায় ক্লাবগুলোকে 50 হাজার করে টাকা

1 min read

২০২১ আসতে আর মাত্র হাতে গোনা দু’মাস। বাজবে নির্বাচনি ঘন্টা। এই রাজ্যে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের আগামী পাঁচ বছরের জন্য টিকে যাওয়ার কঠিন পরীক্ষা সামনেই। আর বিজেপির পক্ষে এবার জমি দখলের লড়ায়। সিপিএমে বা কংগ্রেস কে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল সরকারের সে ভাবে মাথা ব্যাথা নেই, যতটা না বিজেপি কে নিয়ে আছে। পশ্চিমবঙ্গে এমনিতেই তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি অনেকাংশেই দুর্বল হয়ে গেছে, সেটা সংশোধন করার জন্য রাজ্যবাসীদের করের টাকায় কয়েকশো কোটি টাকা খরচ করে পি কে টিম কে আনা হয়েছে। কিন্তু শেষ রক্ষা শেষ পর্যন্ত হবে কিনা শাসকদলের অন্দরেই সেটা লাখ টাকার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। উন্নয়নের যত ই ঢাক পেটানো হোক, মানুষ দেখছে সবই কাগজের হিসেব, বাস্তব কিন্তু অন্য কথা বলছে। রাজ্য জুড়ে অধিকাংশ রাস্তায় পথ চলার অনুপযুক্ত, শিক্ষান্তে চাকরি নেই। সরকারি হাসপাতালে সুচিকিৎসা কদাচিৎ মেলে, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষা পরিকাঠামো নেই, কুরাজনীতির যাঁতাকলে প্রকৃত শিক্ষা পিষ্ট হচ্ছে। এর কুফল ভোগ করতে হচ্ছে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সৈই ছাত্র ছাত্রীদের, যারা বহু কষ্ট করে পড়ার জন্য এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি হন সুভবিষ্যত গড়ার আশায়। তারা সময়ে রেজাল্ট পাবেন কিনা জানেন না, রেজাল্ট উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে যাবে কিনা আতঙ্কে থাকতে হয়, সময় গড়িয়ে যায়। এই রাজ্যে হেভিওয়েট নেতা নেত্রীদের ক’জন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করান, সবার ই তো এক ঠিকানা “বাইপাস”। ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিংহোম, ডায়গনস্টিক সেন্টার, একটাই কারণ, সরকারি হাসপাতালে নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা পরিসেবার বা পরীক্ষাগারের পরীক্ষা আদৌ কতটা সঠিক খোদ শাসকদলের নেতা নেত্রীদের, হেভিওয়েট ‌ব্যাক্তিত্বদের ই সন্দেহ আছে। বাজার দরে আগুন। এরপরও যা পাতে পড়ে তা খাঁটি নয়, সরকারি অধিকাংশ দপ্তরের নামেই সময়ে সঠিক পরিসেবা না দেওয়ার অভিযোগ। ইউনিয়ন রাজ, কথায় কথায় রক্ত চক্ষু, খোদ থানায় গিয়ে অভিযোগ লিপিবদ্ধ করার এবং সামান্য ও ন্যায্য প্রাপ্য জি ডি নং সেটুকুও না পাওয়ার পাশাপাশি নুন্যতম সম্মান টুকুও না জোটা, নেতা নেত্রীদের থেকে শুরু করে হাতাদের বিলাস বহুল জীবন যাপন, ঔদ্ধত্য, জনপ্রতিনিধি হয়ে জনগনকেই তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার প্রবণতা এসব পরিবর্তনের সরকারের মাত্র কবছরের রাজত্বে ই দেখে দেখে সাধারণ মানুষদের সরকারে থাকা শাসকদলের সম্বন্ধে তিক্ত ধারণা তৈরি হয়েগেছে। এর ই সঙ্গে মানুষ দেখছে তোষনের ভয়ঙ্কর রাজনীতি। সরকার যেখানে তার কোষাগারে অর্থ নেই নেই বলে চিৎকার করছে সেখানে সেই সরকারের পক্ষ থেকেই জনগনের কষ্টার্জিত উপার্জনের করের টাকায় ক্লাবকে যেকোনো বাহানায় হরির লুটের মতো লক্ষ লক্ষ টাকার আর্থিক অনুদান প্রদান করা হচ্ছে। যে টাকা দিয়ে বহু শিক্ষিত বেকারের নুন্যতম সম্মানজনক কর্মের অধিকার ফলপ্রসূ করা যেতো।
করোনার এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে এমনিতেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার প্রবণতা নেইই, এমতাবস্থায় ক্লাবগুলোকে পঞ্চাশ হাজার করে টাকা অনুদান প্রদান করা হলো দুর্গাপূজা করার জন্য। করোনার এই আবহে যা মড়ক ডেকে আনতে পারে। তাছাড়া কেনই বা সরকার ক্লাবদের দুর্গাপুজো করার জন্য অর্থ বরাদ্দ করবে, এই টাকা তো আমজনতার করের টাকা। বহু কষ্টের, শ্রমের বিনিময়ে অর্জিত। তার অপব্যবহার কেন হবে? আর এভাবে কি ক্লাব তোষন করে নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়া যায়? প্রতিটি মানুষ নিজের ভোট নিজে দিতে আদৌ যদি পারেন তাহলে কিন্তু সত্যিই পরিস্থিতি অন্য আভাস দিচ্ছে। পুঞ্জিভূত ক্ষোভ বঞ্চনা তুষের আগুনের থেকেও ভয়ঙ্কর। বিরোধী দল সেই সুযোগকে লড়ায়ের হাতিয়ার হিসেবে নেবে এবিষয়ে সন্দেহ নেই। আর ক্লাবগুলোকে লেঠেল বাহীনি ভেবে নেওয়াটাও তো ঠিক না। তারা কিন্তু এই টাকা চেয়ে একবারও আবেদন করেনি, দিলে তারাই বা কেন নেবেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright © All rights reserved. | Powered by KTSL TECHNOLOGY SERVICES PVT LTD(7908881231).