””         পরিবর্তন অবশ্য প্রয়োজন : হাসি দাস – Arambagh Times
Mon. Oct 19th, 2020

Arambagh Times

কাউকে ছাড়ে না

পরিবর্তন অবশ্য প্রয়োজন : হাসি দাস

1 min read

মেয়েরা অবলা, মেয়েরা দুর্বল, এককথায় মেয়েরা বাবা-মায়ের #গলার_কাঁটা।তাই এই কাঁটাকে যত তাড়াতাড়ি তুলে ফেলা যায়, তত তাড়াতাড়ি স্বস্তি জীবনে।
জীবন তো একটাই।গলায় কাঁটা নিয়ে জীবনটাকে নরকসম করার মধ্যে মনুষ্যজনোচিত কোনো বুদ্ধিমত্তা নেই।আর বুদ্ধির পরাকাষ্ঠা কেই বা না দেখাতে চাই!
কিন্তু মেয়েরা গলার কাঁটা হলো কেন?
মেয়েরা দুর্বল বলে?
আমরা জানি- মেয়েরা দুর্বল বা মোটাবুদ্ধির না। এই বক্তব্যের সমর্থনে নতুন করে প্রমাণ দাখিল করার কোনো প্রয়োজন নেই। যাঁরা জনগনমনএর সামনে মেয়েদের দক্ষতা মানেন না, তাঁরা নিজেদের দুর্বলতা ঢাকার জন্য মরিয়া চেষ্টা করে মাত্র। যেমন যারা কাঁচের ঘরে থাকে, তারা সব সময় ভয়ে ভয়ে থাকে।
কিছু স্বামী বৌ পেটায় – তার অনেক কারণ থাকে।
তার মধ্যে কয়েকটি কারণ–
• এদের অবসরে গঠন মূলক কোনো চিন্তা ভাবনা নেই।
• ** সজ্জন বন্ধু বান্ধব থাকে না।
*** এরা সব সময় বিষয় আশয়ের চিন্তায় ডুবে থাকে। জীবনটাকে একটা লাভজনক ব্যবসা ছাড়া কিছু ভাবতে পারে না।ব্যবসাতে সামান্য এদিক ওদিক হলেই মানসিক সমতা হারিয়ে ফেলে। হাতের কাছে #সহজলভ্য_মাল হচ্ছে বৌ, সুতরাং মনের ঝঞ্ঝাট ঝেড়ে দাও বৌয়ের উপর।
বৌ নামক জীবটিকে দানপত্রে পাওয়া গেছে। এখন কেউ যদি কিছু আমায় দান করে, তবে দান সামগ্রী আমি কিভাবে ব্যবহার করবো সেই বিষয়ে কখনোই অন্যের মতামত নেব না।অন্তত আমি তো নেব না।
এই বিষয়ে আমি কয়েকটা কথা বলে নিই।
@আমার বিয়েটা সম্প্রদান কারকে সম্পন্ন হয়নি।
আমি কখনোই সহজ পথে ফাঁকি দিয়ে কিছু লাভ করতে চাইনি।
আমার মেয়েদের সামাজিক বিয়ে যদি ঘটে,তাদের সম্প্রদান ঘটবে না।
বিশ শতকের শেষ দশকে খুব কম বয়সে সামাজিক #ঘৃণ্য_রীতির বিরোধীতা করেছিলাম সুচারুভাবে, দক্ষতার সাথে। তখন হৈচৈ মাচানোর মতো বয়স বা সামাজিক সামর্থ্য ছিল না। যেকোনো সামাজিক রীতিনীতির বিরোধীতা করতে গেলে যেটা লাগে তার একটা হলো #সুশিক্ষা, দ্বিতীয়টি #অর্থ।
আমার পরিবারের কোনোটাই ছিল না।
ফলে বুদ্ধিই একমাত্র সম্বল। অবশ্য চালাকিকে বরাবরই ঘৃণা করি।
বুদ্ধি যে সব সময় নির্ভুল কাজ করে তা কখনোই নয়। বুদ্ধির সঙ্গে যেটা জড়িয়ে থাকে সেটি হলো আবেগ।
আমি আগেই বলেছি যে,সব মানুষ জীবনটাকে লাভজনক ব্যবসা ভাবে না।
বুদ্ধির সাথে আবেগের মাখো মাখো সম্পর্কে সিদ্ধান্ত কখনো কখনো ভুল হয়ে যায়।
সমাজে কিছু শিকারি আছে মানুষের মুখোশ পড়ে।তারা আবেগের খিড়কির দরজা দিয়ে ঢুকে বুদ্ধির বিনাশ ঘটাতে সফল হয় কখনো কখনো।
তাই বুদ্ধি থাকলেই যে জিত অব্শ্যম্ভাবী এমনটি বলা যায় না।
বাড়িতে আগে খিড়কির দরজা থাকতো, এখন ফ্ল্যাট বাড়িতে সেই প্রশ্নই ওঠে না। এমনকি নিজ বাড়িতেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে খিড়কির দরজা রাখে না- নিরাপত্তার কথা ভেবে।
একইভাবে অনেক মেয়েই এখন আর বুদ্ধির সাথে আবেগ মিশিয়ে নিজের জীবনে উটকো বিপদের ঝুঁকি রাখে না।এটা মন্দ কিছু নয়।
ধান ভাঙতে গিয়ে শিবের গাজন গাওয়া হলো।
আসল কথায় আসা যাক,,,
মেয়েরা যদি বিয়ের পর বাবা-মায়ের বাড়িতে থাকে তবে মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে অনেক এগিয়ে যাবে।
প্রমাণ হয়ে যাবে- কাদের দক্ষতা বেশি।
মেয়েদের একবার সুযোগ দেয়া হোক তাদের দক্ষতা প্রমাণের।
একটা বড় গাছকে যদি তুলে অন্য মাটিতে লাগানো যায় তাহলে সেই গাছ আর বাঁচে না। মেয়েদের অবস্থাও তাই।
মেয়েদের সন্তানের দেখভাল তার বাবা-মাকেই তো করতে হয় এবং মেয়ের বাবা-মা তার কন্যার সন্তানদের দেখভাল হৃদয় দিয়ে করেন।ঐ একই বাবা-মা তার বৌমার সন্তানদের দেখভাল সেই মন নিয়ে করেন না। অবশ্য কিছু কিছু ব্যতিক্রম আছে। ব্যতিক্রম সব সময়ই অনতিক্রম্য।
চাকুরীজীবী মহিলাদের সন্তানদের দেখভাল তার বাবা-মাই করেন। অথচ ঘরে যে শাশুড়ি নামক জীবটি থাকেন তার কাজই হচ্ছে যেন শোষণ করা।
ক্লান্ত পরিশ্রান্ত একটি বৌমা বাড়ি ফিরে তার সক্ষম শাশুড়ির সেবা যত্নে মনোনিবেশ করে। কারণ সারাদিন ধরে বৌমাটির সন্তানের দেখভাল করেছে।একটা হেল্পিং হ্যান্ড ছাড়া কজন শাশুড়ি যে এই কাজটি করে সন্দেহ আছে!।
যদি বৌমাটি বাপের বাড়িতে কন্যা হয়ে থাকার সামাজিক স্বীকৃতি পেত, যদি মায়ের বাড়িতে থাকায় সামাজিক রীতি হতো, তবে কি মেয়েটির উপর এত চাপ পড়তো?
যেমনভাবে একটি ছেলে কাজের পর একটা অবসর পাই, ঠিক তেমনিভাবে একটা মেয়েও সারাদিন খাটুনির পর রীতিমতো অবসর পেতো।
চাকুরীজীবী বা গৃহবধূ মেয়েরা, মায়ের কাছে যায় একটু হাত-পা ছড়াতে। কেবল কি হাত-পা ছড়ানো? মেয়েরা কি এই অবসরে একবার ভাবে না তার মুছে যাওয়া দিনগুলি,তার স্বামী যে এখনো অবসর কাটাতে পারে- এই সব বিদ্বেষমূলক প্রশ্ন কি কখনো মাথাচাড়া দেয় না?
নাকি কেবল আমারই মনে আসে?
মনে হয় না, এখানে থাকলে সেও একটা কাজ জোগাড় করতে পারতো, বাবা-মায়ের কাজে লাগতো?
মনে হয় না,ঠাকুরপো জা ভাসুর শ্বশুর শাশুড়ি পাড়া পড়শির কেমনই বাঁকা ছাঁকনির তলায় দম বন্ধ হয়ে আসছে?
সারাদিন অন্যের মন জোগাতে জোগাতেই রত্তিভর শক্তিটুকু খরচ হয়ে যাচ্ছে। এইটুকু শক্তি যদি কাজে লাগানো যেত, মেয়েদের কিছুই কি উপকার হতো না?
এটাই ভারতের সমাজের চিত্র।যারা ব্যতিক্রমের উদাহরণ দেবেন, সেগুলো ব্যতিক্রমই মাত্র।এর বেশি কিছু না।
এতদিন পর্যন্ত যত মেয়ে তাদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন তাদের তালিকাটি একবার দেখুন,,,
লতা মঙ্গেশকর, আশা ভোঁসলে যিনি শ্বশুর ঘর ছেড়ে এসে তবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন, মমতা ব্যানার্জি, মায়াবতী,জয় ললিতা,এমনকি যতগুলো বিবাহিত মেয়ে নিজেদের কিছু মাত্র পরিচয় রাখতে পেরেছেন বা এখোনো পারছেন তাদের প্রায় প্রত্যেকেই মাতৃকূলের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া নয়। এমনকি আমার ক্ষেত্রেও,অন্য পাঁচটি মেয়ের মতো শ্বশুর কূল যেন যন্ত্রণার যন্ত্র।
পুরোনো অনেক যন্ত্রই তো বাতিল হয়েছে।কেই বা আর ফ্যাক্স টেলিগ্রাফ বা চিঠিপত্র ব্যবহার করি? তাহলে সম্প্রদান নামক যন্ত্রটাকেই বা কনকাঞ্জলির ছড়া দিয়ে ব্যবহার করবো কেন? কেন মেয়েরা শ্বশুরবাড়ির যাঁতাকলে পিষ্ট হতে যাবে?
মেয়েদের শ্বশুর বাড়ি পাঠানোর মধ্য দিয়ে পুরুষ তার সামাজিক আধিপত্য কায়েম রেখেছে।পনপ্রথা পিতৃপরিচয় আসলে পিতৃতন্ত্র মজবুত রাখার কুটিল মনোভাবের স্বাক্ষর। পিতৃ পদবি ব্যবহারের চলও তো সেই পিতৃতন্ত্র বজায় রাখার জন্য।
এক্ষেত্রে কেবল পুরুষ দোষী নয়,নারীও এমনই একটা যন্ত্র_তন্ত্র চায়।
প্রশ্ন ওঠে,কটি ছেলে তার বাবা-মায়ের সাথে ঘর করে?
তাহলে বলতেই হয়, আপনার তাহলে সমাজ সম্বন্ধে ধারণাই নেই।
আমাদের দেশে ছেলেরা কেবল কূলের দীপক নয়, বাবা-মায়ের নয়নের মনি। পুত্র সন্তানের শত কেন, হাজার দোষও #মাফ _যোগ্য..
সত্যিই যদি মেয়েদের ভালো চাওয়া হয়, ধর্ষণ থেকে মুক্তি দিতে ইচ্ছুক হয় সমাজ তবে একটি মাত্র রাস্তা, সেটি হলো- #নারী_তন্ত্র_প্রতিষ্ঠা/মাতৃতান্ত্রিক সমাজ। মেয়েরা বাবা-মায়ের বাড়ির সঙ্গেই থাকবে।নইলে, যেমন চলছে তেমনি চলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright © All rights reserved. | Powered by KTSL TECHNOLOGY SERVICES PVT LTD(7908881231).