ক্রমশ ভয়াবহ হচ্ছে চীনের করোনা ভাইরাস, কী এই করোনা ভাইরাস – Arambagh Times
Sun. Feb 16th, 2020

Arambagh Times

কাউকে ছাড়ে না

ক্রমশ ভয়াবহ হচ্ছে চীনের করোনা ভাইরাস, কী এই করোনা ভাইরাস

1 min read

ডা: অশোক নন্দী : ক্রমশ ভয়াবহ হচ্ছে চীনের করোনা ভাইরাস। বাড়ছে মৃত ও আক্রান্তের সংখ্যা। এপর্যন্ত ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০। বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ২৩০০ অধিক। ইতিমধ্যেই সরকারী ভাবে চিনের উহান-সহ মোট তিনটি শহরের প্রায় দু’কোটি মানুষকে শহর থেকে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে।
করোনা ভাইরাস ইতিমধ্যে চীনসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এর সংক্রমণের ফলে এ পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, আর সংক্রমিত হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪শ’র মতো লোক। এ ভাইরাস কিছুদিনের মধ্যে আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে এমন আশংকাও রয়েছে।
এই ভাইরাসটি কোন একটা প্রাণী থেকে মানুষের দেহে ঢুকেছে এবং একজন থেকে আরেকজনের দেহে ছড়াতে ছড়াতে আবার নিজের জিনগত গঠনে পরিবর্তন আনছে। কিন্তু এ ভাইরাসটির প্রকৃতি এবং কিভাবে তা রোধ করা যেতে পারে এ সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা বিশদভাবে জানার চেষ্টা করছেন। মনে করা হচ্ছে সার্স বা ইবোলার মতো প্রাণঘাতী ভাইরাসের মতোই করোনা ভাইরাস। তবে এটি নাকি সার্স বা ইবোলার চেয়েও অনেক বেশি বিপদজনক।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, করোনা ভাইরাসটি মানুষের দেহকোষের ভেতরে ইতিমধ্যেই ‘মিউটেট করছে’ অর্থাৎ গঠন পরিবর্তন করে নতুন রূপ নিচ্ছে এবং সংখ্যাবৃদ্ধি করছে। যার ফলে এটি বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
করোনা ভাইরাসটির আরেক নাম ২০১৯-এনসিওভি। করোনা ভাইরাসের অনেক রকম প্রজাতি আছে। এর মধ্যে মাত্র ৭টি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে।

যেভাবে ছড়ায়
বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, এ ভাইরাসটি একজন মানুষের দেহ থেকে আরেকজন মানুষের দেহে দ্রুত ছড়াতে পারে।
করোনা ভাইরাস মানুষের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমেই এটি একজনের দেহ থেকে আরেকজনের
দেহে ছড়ায়। সাধারণত ফ্লু বা ঠাণ্ডা লাগার মতো করেই এ ভাইরাস ছড়ায় হাঁচি-কাশির মাধ্যমে।
লক্ষণ
* করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রধান লক্ষণ হলো শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া।
* এর সঙ্গে সঙ্গে থাকে জ্বর এবং কাশি।
* অরগ্যান ফেইলিওর বা দেহের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়া।
* হতে পারে নিউমোনিয়া।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসটি শরীরে ঢোকার পর সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিতে প্রায় পাঁচ দিন লাগে। প্রথম লক্ষণ হচ্ছে জ্বর। তার পর দেখা দেয় শুকনো কাশি। এক সপ্তাহের মধ্যে দেখা দেয় শ্বাসকষ্ট।
প্রতিকার
যেহেতু এই ভাইরাসটি নতুন, তাই এর কোন টিকা বা ভ্যাকসিন এখনো নেই এবং এমন কোন চিকিৎসা নেই যা এ রোগ ঠেকাতে পারে। তবে-
* রক্ষার একমাত্র উপায় হলো, যারা ইতিমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছে বা এ ভাইরাস বহন করছে- তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা।
* ডাক্তাররা পরামর্শ দিয়েছেন বার বার হাত ধোয়া, হাত দিয়ে নাক-মুখ স্পর্শ না করা, ঘরের বাইরে গেলে মুখোশ পরা।
* আপনি যদি অসুস্থ হয়ে থাকেন তাহলে মুখোশ পরুন, আর নিজে অসুস্থ না হলেও, অন্যের সংস্পর্শ এড়াতে মুখোশ পরুন।
ভাইরাসটি এখন চীনের অন্যান্য শহর এবং চীনের বাইরে থাইল্যান্ড, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright © All rights reserved. | Powered by KTSL TECHNOLOGY SERVICES PVT LTD(7908881231).