””         ত্রিপুরায় মুমূর্ষু হিন্দু মহিলাকে রক্ত দিয়ে সম্প্রীতির নজির গড়লেন আরামবাগের ফয়েজ উদ্দিন খাঁন – Arambagh Times
Tue. Sep 29th, 2020

Arambagh Times

কাউকে ছাড়ে না

ত্রিপুরায় মুমূর্ষু হিন্দু মহিলাকে রক্ত দিয়ে সম্প্রীতির নজির গড়লেন আরামবাগের ফয়েজ উদ্দিন খাঁন

1 min read

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ আরামবাগ থেকে ত্রিপুরা রাজ্যে বেড়াতে গিয়েছিলেন ফয়েজ উদ্দিন খাঁন। সপরিবারে ত্রিপুরা রাজ্যের খোয়াই এলাকায় যখন তাঁরা বেড়াতে যান সে সময় লক্ষ্য করেন অত্যন্ত মুমূর্ষু এক হিন্দু মহিলা একটি টোটোতে উঠেই অজ্ঞান হয়ে যান। এই দৃশ্য দেখে তিনি ছুটে যান। জানতে পারেন, অনামিকা কর নামে ঐ মহিলার অত্যন্ত শরীর অসুস্থ, তাঁর ও পজিটিভ রক্তের প্রয়োজন। এলাকার খোয়াই জেলা হাসপাতালে গেলে রক্ত না থাকায় তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।গোটা শরীর ফুলে যাওয়া ঐ মহিলার নাকি ব্লাড গ্রুপ ও পজিটিভ। সাথেসাথেই ফয়েজ উদ্দিন খাঁন এগিয়ে আসেন রক্ত দিতে।কারণ তাঁর ব্লাড গ্রুপও ও পজিটিভ। সেই মহিলাটির রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা নাকি 4.5। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন অনামিকার সেই মুহুর্তেই ও পজেটিভ রক্তের প্রয়োজন কিন্তু ঐ জেলা হাসপাতাল যতই নামে জেলা হাসপাতাল হোক, চিকিৎসার মান অত্যন্ত নিম্নমানের। মুমূর্ষু মহিলাটিকে নিয়ে তাঁর আত্মীয় স্বজনেরা আবার ঐ হাসপাতালে যান। সঙ্গে ফয়েজ উদ্দিন খাঁন তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে যান ও রক্ত দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তাঁর ব্লাড গ্রুপ ও পজেটিভ মিলে যাওয়ায় দ্রুত ব্যবস্থা হয়ে যায়। ফয়েজ উদ্দিন খাঁনের স্ত্রী তিনি নিজেও তার স্বামী এবং ঐ মুমূর্ষু পরিবারের পাশে সারাক্ষণ ছিলেন। এই ঘটনায় এলাকার অনেকেই অত্যন্ত সাধুবাদ জানান এবং অনেকেই বলেন যে এভাবে সুদুর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হুগলি জেলার আরামবাগ থেকে আসা একটি মুসলিম পরিবার যারা ত্রিপুরায় ভ্রমণ করতে এসেছেন এবং তাঁরা সম্পূর্ণ অপরিচিত একটি মুমূর্ষু রোগী এবং অবশ্যই একজন হিন্দু পরিবার তাঁদের পাশে যেভাবে দাঁড়িয়েছেন তা দৃষ্টান্ত। এর জন্য ওই পরিবারের পক্ষ থেকেও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। ফয়েজ উদ্দিন খাঁন জানান, কাউকে বাঁচাতে গেলে তার জাত দেখার প্রয়োজন আছে কি? যেহেতু তার শরীরে ও পজেটিভ রক্ত এবং ওই মহিলারও প্রয়োজন ও পজিটিভ, সুতরাং অসহায় মরণাপন্ন রুগীর পাশে দাঁড়ানো উচিত, জাত দেখে নয়। আর তার থেকেই তাঁর এগিয়ে আসা। তিনি জানান এভাবেই হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ না করে আমরা যদি একে অপরের পাশে দাঁড়াতে পারি তাহলে সাম্প্রদায়িক যে বিষ চারিদিকে ছড়াচ্ছে তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফয়েজের এই উদারতায় এলাকায় অনেকেই তাঁকে আশীর্বাদ করেছেন। ফয়েজ মনে করেন এটাই সব থেকে বড় পাওনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright © All rights reserved. | Powered by KTSL TECHNOLOGY SERVICES PVT LTD(7908881231).