Thu. Dec 12th, 2019

ফাইনাল তো দূর অস্ত, সেমি ফাইনালেই মুখ থুবড়ে পড়ল বিজেপি

1 min read

সন্দীপ দেঃ-আজ রাজ্যের তিন উপনির্বাচনের ফলাফলে মুখ থুবড়ে পড়ল ভারতীয় জনতা পার্টি। বলা ভালো মুখ পুড়লো অমিত শাহ ব্রিগেডের। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকে বিজেপি যেন ভাবতে শুরু করেছিল বাংলার মসনদ দখল করে ফেলেছে। শুধু তাই নয় বিজেপির ঔদ্ধত্য যে চরমে উঠেছিল তারই প্রতিবাদে মানুষ মমতা ব্যানার্জিকে হাতকে শক্ত করলো। রাজ্যের তথা গোটা দেশের মানুষ এনআরসি আতঙ্কে আতঙ্কিত। শুধু তাই নয় বিভিন্ন সময়ে বিজেপির বিভিন্ন নেতা যে ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছিলেন তা বাংলা সংস্কৃতির পরিপন্থী ছিল না। মানুষ সেটুকু মর্মে মর্মে উপলব্ধি করে ভোট বাক্সে তারই প্রতিফলন ঘটালো।
শুধু তাই নয় বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের খড়্গপুর বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিপুল জয় তারই প্রমান।বিজেপির নেতাদের যে বডিল্যাঙ্গুয়েজ দেখা গিয়েছিল লোকসভা নির্বাচনের পর। সেই বডিল্যাঙ্গুয়েজের প্রতিফলন ঘটালো জনগণ। জনগণ যেন বুঝে গেছেন বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে তৃণমূল কংগ্রেসই এক এবং অদ্বিতীয়। রাজ্য বিজেপি নেতারা অর্থাৎ দিলীপ ঘোষ থেকে শুরু করে মুকুল রায় এদের কর্মকাণ্ডে মানুষ তিতিবিরক্ত। বিভিন্ন সভা থেকে যে ভাষায় আক্রমণ করা হচ্ছিল, যে কুৎসিত মন্তব্য করা হচ্ছিল, তা মানুষ মেনে নেয়নি। তাও যে বিজেপির পতনের কারণ তা বলাই বাহুল্য। লোকসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে ১৮ টি আসন পেয়ে বিজেপি নেতা কর্মীরা যে ঔদ্ধত্য দেখাতে শুরু করেছিল, তা মানুষ মেনে নেয়নি। শুধু তাই নয় কয়েকদিন আগে মহারাষ্ট্রে রাতের অন্ধকারে, চুপিসারে যেভাবে সরকার গঠন করেছিল বিজেপি তাও মানুষের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্ম হয়েছিল। বিজেপির চানোক্য বলে পরিচিত অমিত শাহ যেন নিজেকে বাহুবলি ভাবতে শুরু করেছিলেন। কোন কিছুকে তোয়াক্কা না করে তিনিও একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে এই ফল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। সব থেকে বড় কথা এনআরসি নিয়ে যেভাবে প্রচার চালানো হয়েছিল তাতে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। তারা ভেবেছিল তাদেরকে সুরক্ষা দিতে পারে একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেস। তাই তারা যেন তৃণমূল কংগ্রেসকে দুহাত ভরে আশীর্বাদ করল। তবে বলা যেতে পারে এতে দিলীপ ঘোষ থেকে মুকুল রায় প্রত্যেকের ক্ষমতা খর্ব হবে। সত্যই হওয়ার কথা ছিলও।আমজনতা দেখেছে বিভিন্ন কেলেঙ্কারিতে যে সমস্ত নেতাদের নাম ছিল তারা যেন বিজেপি দেখিয়ে গিয়ে তুলসীপাতা হয়ে গেছে। অমিত শাহ বলেছিলেন চিটফান্ড কেলেঙ্কারি তদন্ত করে চিটফান্ডের প্রতারিতদের হাতে তাদের টাকা তুলে দেওয়া হবে। কিন্তু আদতে তা হয়নি। প্রতিশ্রুতি প্রতিশ্রুতিই থেকে গেছে। আবার প্রকারান্তরে মানুষ মমতা ব্যানার্জীর উন্নয়নের আপ্লুত হয়ে তাদেরকে আশীর্বাদ করেছে।
আবার অন্যদিকে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির অভূতপূর্ব উত্থানের পিছনে যে বামের ভোট রামে গিয়েছিল তাও প্রমাণিত হয়ে গেল।বামফ্রন্ট রাজ্যে সদ্য জেগে উঠতে শুরু করেছে, ফলে ভোট ভাগাভাগি খেলায় বিজেপি পিছনের সারিতে চলে গেছে। শুধু তাই নয় রাজ্যে বিজেপির মুখ বলতে কেউ নেই। এর ফলেও এই পরাজয় বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমান সময়ে যেভাবে বিজেপির বিভিন্ন কর্মীরা, যাদের দেখে মানুষ আতঙ্কিত তাদের দাপাদাপি মানুষ মেনে নেয়নি। তাই এটুকু বুঝতে পেরেছেন এই সমস্ত কর্মীরা যদি বিজেপির নেতা হন তাহলে অদূর ভবিষ্যতে তাদের অবস্থা আরো খারাপ হবে। তাই তারা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টির কাছ থেকে।
এটাও ঠিক দিলীপ ঘোষ থেকে শুরু করে মুকুল রায়। অমিত শাহ থেকে নরেন্দ্র মোদী প্রত্যেকেরই বোঝা উচিত লোকসভা দিয়ে বিধানসভা বিচার হয় না। মানুষ লোকসভা নির্বাচনে দেশে স্থায়ী সরকার চেয়েছিল, তাই তারা বিজেপিকে ভোট দিয়েছিল। কিন্তু রাজ্যেতে বর্তমান সময়ে একমাত্র স্থায়ী সরকার দিতে পারে তৃণমূল। তাই তারা তৃণমূলের প্রতি অর্থাৎ মমতা ব্যানার্জির প্রতি আস্থা রেখেছেন। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে যে সমস্ত কেলেঙ্কারী প্রকাশ্যে এসেছিল, সেই সমস্ত কেলেঙ্কারির পর মমতা ব্যানার্জি বারবার বলেছিলেন ২৯৪ টি আসনে আমিই প্রার্থী। আমাকে দেখে ভোট দিন। মানুষ তাকে দেখেই ভোট দিয়েছিল। কিন্তু তখনও কেন্দ্রের শাসনে ছিল বিজেপি। সেই কেলেঙ্কারী নিয়ে কোন কিছু তদন্ত সেভাবে এগোয়নি। মানুষের সামনে প্রমাণ করতে পারেনি ভিডিওতে প্রকাশ যে সমস্ত ব্যক্তিকে কেলেঙ্কারীতে দেখা গিয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে কোন দোষী সাব্যস্ত করা যায়নি। মানুষ বারবার বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল এ এক রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। তাই তারা স্বচক্ষে দেখেছে, চিটফান্ডে নাম থাকা বিভিন্ন নেতারা কিভাবে দলবদল করেছে। তাও মানেনি জনগণ।
সর্বোপরি বিজেপির বর্তমান নেতাদের কুরুচিকর মন্তব্য মানুষ মেনে নেয়নি। কেন্দ্রে থাকা একটি দল যে প্রায় ছয় বছর কাটিয়ে ফেললো, তারা এখন পর্যন্ত রাজ্যে মুখ তুলে আনতে পারেনি। ফলে বিজেপির প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা গিয়ে ঠেকেছে তলানীতে।
যে দল ২০২১ এর বাংলার মসনদ দখলের স্বপ্ন দেখে। সেই দল তিনটি উপনির্বাচনে যেভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে তাতে সহজেই অনুমেয় ফাইনাল তো দুর অস্ত, সেমিফাইনালে ধরাশায়ী অমিত শাহ ব্রিগেড। তাই নতুন করে অমিত শাহ ব্রিগেডকে আগে বাংলার পালস্ বুঝতে হবে,তারপর বাংলা মসনদের স্বপ্ন দেখতে হবে।তাই তাদের ভাবতে হবে দলটাকে কিভাবে সংগঠিত করা যায়, কিভাবে বাংলাতে নতুন মুখ তুলে আনা যায়। শুধু তাই নয় বর্তমানের নেতাকর্মীদের মুখে লাগাম দিতে হবে।বাংলার সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে হবে। সবথেকে বিজেপির আরো বড় সমস্যা, যে দল রাজ্যে সেভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারল না, তার মধ্যেই শুরু হয়েছে লবি বাজি। তা বন্ধ করতে না পারলে বিজেপির স্বর্ণযুগের কথা অমিত শাহ, নরেন্দ্র মোদিদের ভুলে যেতে হবে।রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে আবার হয়তো তোড়জোড় শুরু হবে,চিটফান্ড কেলেঙ্কারীর।তাদের মতে দল ভাঙিয়ে নয়,বিজেপিকে ময়দানে থাকতে হলে নতুন মুখ তুলে আনতে হবে।দিলীপ ঘোষ,মুকুল রায়,সায়ন্তন বসু,রাহুল সিনহা’দের নিয়ে রাজ্য দখলের স্বপ্ন না দেখে,নতুন করে ভাবা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright © All rights reserved. | Powered by KTSL TECHNOLOGY SERVICES PVT LTD(7908881231).