Thu. Dec 12th, 2019

মহালয়া নিয়ে কিছু কথা

1 min read

হিন্দু রীতি অনুসারে মহালয়া হল—প্রয়াত তথা শ্রদ্ধেয় প্রিয় পূর্বপুরুষদের জলদান বা তর্পণ করার সর্বশ্রেষ্ঠ তিথি।
তাঁদের স্মৃতি স্মরণ করার দিন।

এ প্রসঙ্গে মহাভারতে একটি আখ্যান আছে।

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে নিহত কর্ণ স্বর্গে গেলে যমের (বা ইন্দ্রের) নির্দেশে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপ্রতিপদ তিথিতে কর্ণ আবার মর্ত্যে ফিরে এসে এক পক্ষ কাল থেকে পিতৃপুরুষকে তিল-জল দান করে পাপস্খলন করলেন। আশ্বিনের অমাবস্যা তিথিতে শেষ জলদান করে কর্ণ স্বর্গে ফিরে গেলেন। এই বিশেষ পক্ষকাল সময়কে শাস্ত্রে পিতৃপক্ষ বলা হয়েছে। পিতৃপক্ষের শেষ দিন হল মহালয়া।
এই সময়কালে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের তিল-জল দিয়ে স্মরণ করার রীতি চালু আছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে। একে বলা হয় তর্পণ।

কাজেই মহালয়া হল মানুষের প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মরণ করার দিন। আবার অন্য একটি দিক থাকতে পারে।
মহালয়ার ভোরে আকাশবাণীর মহিষাসুরমর্দিনী গীতিআলেখ্য প্রচার।

১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ দুর্গাপুজোর মহাষষ্ঠীর ভোরে কলকাতা বেতার কেন্দ্র থেকে সম্প্রচার হল এক অভিনব আগমনী গীতি-আলেখ্য ‘মহিষাসুরমর্দিনী। রচনা— বাণীকুমার, সুর সংযোজনা:— পণ্ডিত হরিশচন্দ্র, রাইচাঁদ বড়াল ও পঙ্কজকুমার মল্লিক। স্ত্রোত্র পাঠ:— বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র।

বেতার সম্প্রচারের ছিয়াশি বছরের ইতিহাসে এই রকম অনুষ্ঠান আর দ্বিতীয় নির্মিত হয়নি, যার জনপ্রিয়তা এর ধারেকাছে আসতে পারে।

সেই ‘জরুরী অবস্থা’-র জমানাতেও জনগণের প্রবল প্রতিবাদে বিরেন্দ্রকৃষ্ণ র মহালয়া প্রচারিত হয়েছিল।

প্রথম বছর অর্থাৎ, ১৯৩২-এ দুর্গাষষ্ঠীর ভোরে সম্প্রচারিত হলেও পরের বছর থেকে তা মহালয়ার ভোরে সরিয়ে আনা হয় একটাই কারণে যে, মানুষজন ওই অনুষ্ঠান শোনার জন্য ভোরে ঘুম থেকে উঠবেন এবং তার পর তর্পণ করতে বেরোবেন।

মহালয়া পিতৃপুরুষকে জলদান করার তিথি—এর সঙ্গে দুর্গাপুজোর কোনও যোগ নেই—্। যোগ নেই মহিষাসুরমর্দিনী’ গীতিআলেখ্যটিরও। এটা নেহাতই morning alarm হিসেবে এটি সম্প্রচার করা হয়ে থাকে। বর্তমানে একটা পুজো র গিমিক তোলা হয় মহালয়া র মাধ্যমে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright © All rights reserved. | Powered by KTSL TECHNOLOGY SERVICES PVT LTD(7908881231).