Thu. Dec 12th, 2019

কিসের শিক্ষক দিবস?

1 min read

প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণকে শিখন্ডি করে বর্তমানে যে শিক্ষক দিবস পালিত হয় তা কি সত্যিই সার্থক? এখন স্কুল কলেজ থেকে শুরু করে পাড়ার “কেলাব” ,স্তরেও অনেকে মহান এই ব্যক্তিটির ছবি কোনোভাবে জোগাড় করে একটা মালা পরিয়ে “শিক্ষক দিবস “কে সামনে রেখে নাচ গান হৈ হুল্লোড় খানাপিনা করে (কোনোকোনো স্কুল কলেজে শিক্ষক শিক্ষিকাদের চাহিদা মোতাবেক ছাত্র ছাত্রীদের তাদের মা, বাবার গ্যাঁট কেটে চাঁদা তুলে তা কিনেও দিতে হয়) শিক্ষক দিবস পালন করে। এই দিনেই শিক্ষরত্ন, জাতীয় শিক্ষক ইত্যাদি সম্মান দেওয়া হয়।আর সেসব পেতে সারা বছর ধরে নানা পথে দাদাদের মন গলিয়ে নিজের নাম একেবারে সামনের সারিতে আনার বিচিত্র কৌশলও নাকি অনেককে করতে হয়, ছাত্রপড়ানো তাতে চুলোয় যায় যাক, খাতায় কলমে নাকি ছাত্রদরদী প্রমান থাকলেই হলো। এখন শিক্ষক দিবস এমনই। আচ্ছা শিক্ষক দিবস এত ঘটা করে পালনের প্রয়োজনীয়তাই বা কি ! দিন দিন বাহ্য আড়ম্বর বেড়েই চলেছে। শিক্ষক, অধ্যাপক কুলের মাস মাহিনা আকাশ ছোঁওয়া। (প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকরা এক্ষেত্রে বড়োই হতভাগ্য ! প্রাথমিক স্তরে পড়ানোই বা শিক্ষার প্রথম পাঠটা তাঁরা শেখানোর জন্য সম্ভবত তাঁদের শিক্ষক- টিক্ষক বলতে বাধে, তাঁদের মাস মাহিনাও আহামরি নয়, খাটুনিও প্রচুর, পুরস্কার- টুরস্কারও সেভাবে জোটেন।এঁদের কজনের ভাগ্যেই বা স্থায়ী চাটা পাতা মোটা অংকের টিউশুনিই জোটে) , স্কুল কলেজে হাজিরা দিলেই ব্যাস। এখনকার শিক্ষক অধ্যাপকদের মোটা অংকের মাস মাহিনাতেও খিদে মেটেনা।এরা সংগঠনের ছাতার তলায় থেকে থেকেই দাবির পর দাবি জানিয়ে আন্দোলন করেন, কিন্তু স্কুলের লাস্ট বেঞ্চের ছাত্র বা ছাত্রীটি যাদের বই কেনার বা মোটা টাকা দিয়ে এইসব শিক্ষদেরই কাউকে টিউটর রাখার ক্ষমতা নেই, তাদের প্রতি একটু সহানুভূতি দেখানোর, একটু যত্ন করে পড়ানোর দায়বদ্ধতা দেখান না। এক বারও ভাবেন না তাঁদের বিভাগে একজনও ছাত্র উপস্থিতি থাকলে তাকে নিয়েই ক্লাস করা উচিত। কারণ ছাত্রটি বাবা- মায়ের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যায় করেই স্কুলে বা কলেজে পড়তে আসছে। শিক্ষক দিবসে এখন আবার প্রতিটি বিভাগের ক্লাসের ছাত্র ছাত্রীরা স্বতন্ত্র ভাবে শিক্ষক দিবস পালন করে।শিক্ষক শিক্ষিকাদের জন্য তারা যে ঢালাও খাওয়াদাওয়ার, উপঢৌকনের, ডিজের ব্যবস্থা করে নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে, শিক্ষক শিক্ষিকারা এক বারও ভাবেন না — সেই চাঁদার অর্থ আসে কোথাথেকে, নিশ্চয়ই ছাত্রছাত্রীদের নিজের উপার্জিত নয় –তাদের বাবামায়ের। শিক্ষার্থীদের দেয় উপহার নেওয়ার সময় একবারও কি তাঁরা ভাবেন– যে প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁরা মাসান্তে মোটা অংকের মাহিনা নেন সেই প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের প্রতি তাঁরা আদৌ কোনো দায়িত্ব পালন করেছেন কিনা !! বিবেক দংশন হয়না !!তাহলে ছাতার মতো এতো টিউটোরিয়াল হোম গজাচ্ছে কেন? স্কুল কলেজে ফাঁকি দিয়ে টিউশুনিতে (সেখানেও ফাঁকি, সে আর এক যন্ত্রণাকর গপ্পো )এতো ক্লান্তিহীন আগ্রহ কেন? একটি ছাত্র বা ছাত্রীর দুর্দান্ত রেজাল্ট এর জন্য স্কুল বা কলেজের কি সত্যিই কোনো ভূমিকা আছে? প্রত্যেক বিষয়ে প্রাইভেট টিউশন ছাড়া কোনো গতি আছে? স্বর্ণ যুগের সেই সব আদর্শ স্বার্থগন্ধহীন ছাত্রদরদী আধপেটা খাওয়া শিক্ষক এখন কদাচিৎ মেলে। সেটা উদাহরণ নয়। আজও হাতে গোনা দুএকজন শিক্ষক যদিও বা মেলে, কিন্তু তাঁরা প্রচারের আলোয় আসতে চান না, তাঁরা শিক্ষা বেচতে চাটা পেতে বসে থাকেন না।প্রচারবিমুখ সেসব শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের মনের মনিকোঠায় অমর হয়ে থাকেন।ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ, এ পি জে আব্দুল কালাম এনাদের মত আদর্শ শিক্ষদের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে তাঁদের সমতুল্য ভাবার আগে, পুরস্কার নেবার আগে প্রতিষ্ঠানে ফাঁকিবাজ শিক্ষকদের একবারও ভয় হয়না — নিজেদের মুখটাতো নিজেকেও দেখতে হয় !!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright © All rights reserved. | Powered by KTSL TECHNOLOGY SERVICES PVT LTD(7908881231).