Tue. Dec 10th, 2019

প্রশাসনিক বৈঠক কি চ্যাংড়ামো করার জায়গা?

1 min read

পুলিশের তোলা তোলাকে কেন্দ্র করে এক প্রশাসনিক বৈঠকে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী পাশেই বসে থাকা সুরজিৎ কর পুরকায়স্থকে জানতে চান সুরজিৎ বাবু টাকা নেন কিনা?মমতা ব্যানার্জীর এদিনের কথাগুলি ভাইরাল হয়ে যায়।সমালোচনাও হয়। এরপরেই তিনি আর একটি প্রশাসনিক বৈঠকে বলেন, “আমি ক্যাজুয়াল বলতে বলতে সুরজিৎকে বলছিলাম কেউ কেউ বলছে কোলকাতাতে পয়সা পাঠাতে হবে, তোমরা কি টাকা নাও? এটা আমি সুরজিৎকে চ্যাংড়ামো মেরে বলেছিলাম। ” তিনি বলেছেন, “জগতে ভালো লোকও আছে, খারাপ লোকও আছে, এটা নিউজ করার মতো নয়। ” তিনি মিডিয়ার উদ্দেশ্যে বার্তা দেন, “আমি পরিষ্কার বলছি, মিডিয়াও এটা স্ট্রংলি ডিল করবে,…. বড্ড বেশি দালালি করে ফেলছেন ” প্রথমেই জানতে ইচ্ছা করে প্রশাসনিক বৈঠক কি “চ্যাংড়ামো” করার জায়গা? জেলায় জেলায় লক্ষ লক্ষ টাকা সরকারি কোষাগার থেকে ব্যায় করে প্রশাসনিক বৈঠক হচ্ছে এলাকার উন্নয়নে গতি আনার জন্য, এটাই তো রাজ্যবাসীরা ভেবে আসছিলেন! এতো অভাব অভিযোগ জানানো, আলোচনার তাহলে কোনো গুরুত্বই তো নেই! স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী যদি বলেন তিনি “চ্যাংড়ামো ” করছিলেন তাহলে রাজ্যবাসীরা কাকে ভরসা করবে? তিনি মিডিয়াদের “বার্তা ” দিচ্ছেন, বলছেন বড্ড বেশি দালালি হয়ে যাচ্ছে।কিন্তু তাঁর প্রোগ্রাম লাইভ হয়।বক্তব্যটা তো কেউ তাঁর মুখে বসিয়ে দিচ্ছেন না।ঘুষ নেওয়া হচ্ছে কি হচ্ছেনা, তাঁর পার্টির জন্য জেলায় কেউ টাকা তোলে কি তোলেনা, সেভ ড্রাইভ সেফ লাইফ এর নামে শ্বাস – প্রশ্বাস নেওয়ার মতোই থানা এলাকাতে গাড়ি থেকে তোলা আদায়, বাইক চালকদের হয়রানি করা, অযথা অপমান, কেস না দিয়ে টাকা নেওয়া এসব হয় না হয়না সেসব অন্য প্রশ্ন, যার কোনোদনই হয়তো সমাধানও নেই। কিন্তু প্রশ্ন একজন মুখ্যমন্ত্রী লাখ লাখ টাকা খরচ করে হওয়া প্রশাসনিক বৈঠকে কিভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মাঝে “চ্যাংড়ামো” করে থাকতে পারেন !! এর পর থেকে তো যে কোন প্রশাসনিক বৈঠকেই তাঁর বক্তব্যের কোনটা “সিরিয়াস” কোনটা “চ্যাংড়ামো” তা নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই ধন্ধ থেকে যাবে !

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright © All rights reserved. | Powered by KTSL TECHNOLOGY SERVICES PVT LTD(7908881231).