Thu. Dec 12th, 2019

যোগার মাধ্যমে রোগ মুক্তিঃ- মুক্তা বারিক

1 min read

(অসুখে ভুগছেনা এমন মানুষ এখন হাতে গোনা। হাসপাতাল আর ডাক্তারদের চেম্বারে দিনের পর দিন ভিড় উপচে পড়ছে। ফিজ আর হাজারো পরীক্ষা শেষে ওষুধের বস্তা নিয়ে বাড়ি ফেরা এখন নিত্য নৈমিত্তিক বিষয়। এরকমই সময়ে আরামবাগ মহকুমায় যোগার মাধ্যমে বহু রোগ সারিয়ে রীতিমতো নজর টেনে নিয়েছেন শ্রীমতি মুক্তা বারিক। তাঁর সেই জাদুকাঠির খোঁজে হাজির হয়ে ছিলাম মুক্তাদির সরকারি আবাসনের ঘরে)। হাজির ছিলেন আরামবাগ টাইমস্ এর প্রতিনিধি কাকলী চ্যাটার্জী।

আরামবাগ টাইমস :- আরামবাগে কতদিন আছেন?

মুক্তা দেবী :- স্বামী সুকুমার বারিক সরকারি চাকুরী সূত্রে আরামবাগে আসেন বেশ কয়েক বছর। দুই ছেলেকে নিয়ে চাঁদুরে সরকারি আবাসনে উঠি আমরা।ছোট্ট থেকে যোগার মধ্যে দিয়ে বড়ো হয়ে উঠেছি।যখন ভোর বেলা বাড়ির বৌ মেয়েদের দল বেঁধে পি. এ. পি. সি করতে করতে হাঁটতে দেখি, খুবই কষ্ট হতো। আজকালকার দিনে প্রায় প্রতি বাড়িতে এক বা একাধিক পরিচারিকা, ফলে আগেকার দিনের মত বাড়ির বৌ মেয়েদের গৃহ কর্ম প্রায় নেই, ফ্রিজের খাবার, ফাস্ট ফুড নানা কারণে বহু রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। ডাক্তারদের কাছে সমানুপাতে ভিড়ও বাড়ছে। অথচ যোগা এমনই সম্পদ যার সঠিক প্রয়োগে রোগ পালতে পথ পায়না।

আরামবাগ টাইমস :- সুগার, স্থূলতা, দুর্বলতা, অকাল বার্ধক্য, মাথার যন্ত্রনা, আলস্য ইত্যাদি যোগার মাধ্যমে সেরে ওঠে?

মুক্তা দেবী :-অবশ্যই সম্ভব।সকলেই বিশেষ করে মহিলাদের যোগা অনুশীলন করা উচিত। উপযুক্ত প্রশিক্ষকের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে তবেই যোগা করা উচিত। টি.ভি দেখে বা বই পড়ে আন্দাজে যোগা করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। প্রশিক্ষক শুরু থেকেই হাতে ধরে শেখান।কার শরীরে কোনো অসুখ? কি তার দাওয়ায় সেটা প্রশিক্ষকই জানেন।সেই অনুযায়ী তিনি যোগা নির্দিষ্ট করেন।

আরামবাগ টাইমস :- আজকালকার মায়েদের সন্তানদের জন্য প্রতিযোগিতার বাজারে বেশ কিছুটা চাপ নিতে হয় মেনোপজের কারণেও নানা রোগের উৎপত্তি হয়, এই যে ট্রেস তার প্রভাব পড়ে শরীরে।যোগা গ্রাম বাংলার মেয়েদের জন্য কতটা সহায়ক?
মুক্তা দেবী : -সহায়ক !! বলুন বন্ধু।সঠিক যোগা কখনোই বসবাস ঘাতকতা করেনা।আজ সাড়া বিশ্ব যোগকে গ্রহণ করেছে। ২১জুন বিশ্ব যোগা দিবস।যোগা মূলত ভারতীয় অধ্যাত্মবাদের অঙ্গ। যা মন ও আত্মার সাথে সংযোগ সাধন করে। আর মন সুস্থ সংযত থাকলেই শারীরিক সমস্যাও পালিয়ে যায় বা বলা যায় যেতে বাধ্য হয়।

আরামবাগ টাইমস :- আপনি কিভাবে কখন যোগার সাথে যুক্ত হলেন?

মুক্তা দেবী :-পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহি থানার আরুই গ্রামের মেয়ে আমি মুক্তা গড়াই।পাড়ার এক মিলিটারি কাকু যাঁকে আমরা কালু কাকু বলতাম, আমার ৬/৭বছর বয়সেই তার কাছে প্রথমে যোগায় হাতে কড়ি। বাড়িতে নিয়মিত যোগার পাশাপাশি এথলেটিক্সও করতাম।কখনও ছাড়িনি। প্রচুর প্রাইজও পেয়েছি। ড. গৌরমোহন রায় কলেজে পড়া কালীন বিয়ে হয়ে মুক্তা গড়াই থেকে বারিক হলাম। বিয়ের পর কলেজ শেষ করি। কিন্তু স্বামী ও শ্বশুর বাড়ি উভয় থেকেই যোগা অনুশীলনে বাধা নয়, প্রেরণা পেয়েছি। বাচ্ছা হওয়ার পর ঘাড়ে স্পন্ডেলাইসিস হয়।কিন্তু ওষুধ নয় যোগাতেই আমি সুস্থ হই।আমার কাছে অনুশীলন করে অনেকেরই সুগার কন্ট্রোলে, অনিদ্রা ভ্যানিস, স্থূলকায় থেকে স্লিম ফিগারে।

মুক্তা দেবী জানান, “মহর্ষি পতঞ্জলি বলেছেন, “স্থিরসুখমাসনম”অর্থাৎ স্থির ভাবে সুখকর অবস্থানই হোলো আসন। “যোগসচিত্তবৃত্তিনিরোধ:”চিন্তা ভাবনা এবং মনের ক্রিয়াকলাপ ইত্যাদির উপর নিয়ন্ত্রণ আনাই হলো যোগ।আমার যোগগুরু জয়ন্ত হোড়ের কাছ থেকেই দেখেছি অজস্র নরনারী যোগার মাধ্যমেই রোগমুক্ত হয়েছেন।গুরুকে সহস্র কোটি প্রণাম। তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা নিয়েই আজ আমি এখানে অনেককেই শিখাচ্ছি।আমি বারবার অনুরোধ করবো, ডাক্তারের চেম্বার , ওষুধ নয় যোগাকে আঁকড়ে ধরুন।নিজে সুস্থ থাকুন পরিবারের বাকিদের সুস্থ রাখুন”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright © All rights reserved. | Powered by KTSL TECHNOLOGY SERVICES PVT LTD(7908881231).